অনলাইন ডেস্ক : নাগরিকত্বের নিয়ম আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে সুইডেন সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হচ্ছে–আবেদন করার আগে আট বছর অপেক্ষা করতে হবে, নির্ধারিত ন্যূনতম আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে এবং সুইডিশ সমাজ সম্পর্কে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ডানপন্থী সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার আশ্রয়প্রার্থী সুইডেনে আশ্রয় চাইলে দেশটি অভিবাসন নীতি কঠোর করা শুরু করে। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপ করেছে।
সরকার মনে করছে, অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় এই শর্তগুলো অনেক বেশি কঠোর। কারণ এখন নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় কোনো শর্তই নেই।’
সরকার জানিয়েছে, সুইডিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের কমপক্ষে আট বছর দেশে বসবাস করতে হবে, যা আগে ছিল পাঁচ বছর। পাশাপাশি মাসিক আয় ২০ হাজার সুইডিশ ক্রোনারের (প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা) বেশি হতে হবে। আর দেশটির ভাষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে।
ফোরসেল বলেন, ‘আপনি যদি নাগরিক হতে চান, তবে সুইডেন রাজতন্ত্র নাকি প্রজাতন্ত্র—এটি জানা যুক্তিসঙ্গত।’
সুইডেন বা বিদেশে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড থাকলে আবেদনকারীদের আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি চার বছরের কারাদণ্ড ভোগ করে থাকেন, তবে তাকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
নতুন নিয়মগুলো আগামী ৬ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
