অনলাইন ডেস্ক : ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনসভায় মন্তব্য করায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার একাধিক ধারায় মামলা করেছেন শিলিগুড়ির এক আইনজীবী।
আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
আইনজীবী রিঙ্কি সিং বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন, তখন তিনি শপথ নিয়েছিলেন যে দেশের সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও সংহতি তিনি রক্ষা করবেন। কিন্তু তার বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে।’
এর আগে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে গত মঙ্গলবার এক জনসভায় বক্তব্য দেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই, কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।’
এই বক্তব্যে তিনি যে ঘটনাক্রম উল্লেখ করেছেন, সেই ঘটনাক্রমে তিনি বাংলাদেশের চর্চিত চরিত্র ওসমান হাদির কথা বলেছেন বলে মনে করছে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল।
ওই ঘটনার সঙ্গে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে বলেন, ‘তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন… আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।’
এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে আইনজীবী রিঙ্কি সিং বলেছেন, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। বাংলাদেশের সরকার এমনকি ওসমান হাদির পিতামাতাও এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের দিকে আঙুল তোলেননি, ফলে মমতা ব্যানার্জি দেশের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় বিপদের জন্ম দিয়েছেন।
রিঙ্কি সিং বলেন, এই মন্তব্যের ফলে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী শক্তি সক্রিয় হতে পারে ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা অসুরক্ষিত হয়ে পড়তে পারেন।
আগামী সোমবার সেখানকার হাইকোর্ট খুললেই মমতার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্য আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন রিঙ্কি সিং।
ইতিমধ্যেই তিনি শিলিগুড়ি সাইবার থানায় মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যে আইনে তিনি মামলা করেছেন, সেই ইউএপিএ হলো মূলত সন্ত্রাস দমন আইন। এই আইন জামিন অযোগ্য ও অভিযোগ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে রাখা যায়।
