অনলাইন ডেস্ক : ইরাকের ওপর অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত এবং ডলার প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ইরাকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরাকের সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, দেশটিতে মার্কিন ডলারের যে সরবরাহ আসত তা বর্তমানে পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।
২০০৩ সাল থেকেই ইরাকের খনিজ তেলের সমস্ত অর্থ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হয়। ফলে ওয়াশিংটন বাগদাদের অর্থনীতির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ পায়। আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে ইরাকের খাদ্য, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার জন্য এই ডলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগদ অর্থের প্রবাহ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকের অভ্যন্তরীণ বাজারে তারল্য সংকট এবং পণ্যমূল্য বৃদ্ধির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই অর্থনৈতিক অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং যৌথ নিরাপত্তা বৈঠকগুলোও স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের রাজনৈতিক কাঠামো থেকে মিলিশিয়াদের প্রভাব পুরোপুরি দূর করা এবং মার্কিন স্থাপনায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক তৎপরতা বৃদ্ধিতে ট্রাম্পের প্রশাসন এই আর্থিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে ইরাকে নির্বাচনের পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও শিয়া দলগুলোর মধ্যকার বিভক্তির কারণে নতুন সরকার গঠন সম্ভব হয়নি। ওয়াশিংটনের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে নিজেদের অনুকূলে নতুন সরকার গঠনের চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন যে, এই ধরণের অর্থনৈতিক চাপ ইরাকের সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে। ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে আরও উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: মিডল ইস্ট অনলাইন ডটকম
