অনলাইন ডেস্ক : ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি “জিরো টলারেন্স নীতি” গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) বোর্ড অব গভর্নরসের এক বিশেষ সভায় ইরান অভিযোগ করেছে, ২০১৫ ও ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের সুরক্ষিত পরমাণু সাইটগুলোতে অন্তত ১৭ বার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি প্রতিনিধি দল জানায়, এই হামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক একটি আঘাত হানা হয়েছিল বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল রিঅ্যাক্টর থেকে মাত্র ৩৫০ মিটার দূরের একটি স্থাপনায়। এই বুশেহর কেন্দ্রে হাজার হাজার কেজি পরমাণু জ্বালানি ও উপাদান রয়েছে। IAEA-এর মহাপরিচালক এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, এই প্ল্যান্টে সরাসরি কোনো আঘাত লাগলে তা পরিবেশে “ভয়াবহ মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা” ছড়িয়ে দিতে পারে।
ইরান এই হামলাগুলোকে সরাসরি “যুদ্ধাপরাধ” এবং “আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধের জন্য এর পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। বিবৃতিতে ১৯৮১ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৮৭ নম্বর রেজুলেশনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ইরাকের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে ইসরায়েলকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ইরান পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিষিদ্ধ করার জন্য এর আগে IAEA সাধারণ অধিবেশনে দুটি প্রস্তাব এনেছিল, কিন্তু প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
