অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দিনিপ্রো শহরে ছয়জন এবং রাজধানী কিয়েভে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটিকে রাশিয়ার অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার ভোররাতে চালানো এই হামলায় বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
হামলার সময় ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কসংকেত জারি ছিল। কিয়েভ নগর প্রশাসনের সামরিক প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। হামলার ফলে একটি জ্বালানি কেন্দ্রের আশপাশ, নির্মাণাধীন এলাকা, কয়েকটি বহুতল ভবন ও দুটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে।
এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে সোমবার রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কসংকেতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
জেলেনস্কি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বড় আকারের হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সেই হুমকি এখনো বহাল রয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়া ঘোষণা করেছিল, ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ছাত্রাবাসে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা কিয়েভের সামরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। ওই হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিল বলে রাশিয়ার দাবি।
তবে ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা যে হামলা চালিয়েছিল তা কোনো বেসামরিক স্থাপনা নয়, বরং একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।
এদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার হুমকিকে ‘নির্লজ্জ চাপ সৃষ্টির কৌশল’ বলে অভিহিত করেছে এবং মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে কিয়েভের ওপর একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ ঘটনাকে রুশ হামলার জবাবে ‘ন্যায়সঙ্গত প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।
