অনলাইন ডেস্ক : ইরান যু্দ্ধ নিয়ে নিজ দেশেইর কোণঠাসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধ করতে এবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হলো প্রস্তাব। তাত্পর্যপূর্ণভাবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন তারই দলের নেতারা। যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়েছে ২১৫টি। আর বিপক্ষে ২০৮টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাবের ফলে ইরানে সামরিক অভিযান নিয়ে কংগ্রেসে জোর ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রস্তাবে দ্রুত ইরানের কাছ থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দলের মধ্যেই ট্রাম্পের বিরোধিতা, বাড়ছে অস্বস্তি
ইরান যুদ্ধে নিয়ে আমেরিকার ভেতরেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে একাংশের। তারা চান, অবিলম্বে এই সংঘাত বন্ধ করুক ওয়াশিংটন। যুদ্ধের জেরে মার্কিন অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে, যার প্রভাব সরসারি গিয়ে পড়ছে মার্কিন নাগরিকদের ওপর। এমনকি ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির একাংশও ইরান যুদ্ধের ইতি চাইছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষমতা কমাতে প্রতিনিধি পরিষদের এটি চতুর্থ প্রচেষ্টা। প্রতিনিধি পরিষদের যে চার জন রিপাবলিকান সদস্য বিল পাশ করানোর জন্য বুধবার ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একজোট হয়েছেন, তারা হলেন—টমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন। এছাড়া মেইনের ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি এর আগে এই ধরনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি এবার ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। নিম্নকক্ষের অনেক সদস্য যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্যও দিয়েছেন।
মিশিগানের রিপাবলিকান সদস্য ব্যারেট বলেন, কংগ্রেস একাই যুদ্ধ ঘোষণা করে, এটা এমন একটা বিষয় যা নিয়ে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা হয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ট্রাম্পের চক্ষুশূল হলেন কি না এবং সেটি নিয়ে তিনি চিন্তিত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারেট বলেন, ‘আমার বিবেক যা বলেছে, আমি সেটি অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আমি এটাকেই সঠিক বলে মনে করি এবং সেজন্য এর দায়ভার নিতেও প্রস্তুত আছি।’ বুধবারের এই ভোটাভুটিতে যা দেখা গেছে, সেটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের মতবিরোধকে আবারও সামনে এনেছে বলে মনে করছেন অনেকে। নিজ দলের সদস্যরা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় মাত্র কয়েক কদিন আগেই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের জন্য ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি ‘অস্ত্রবিরোধী’ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।
প্রস্তাব পাশ কী কাজে আসবে
প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাশ হলেও সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে এখন মার্কিন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সিনেট বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন প্রচেষ্টাটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না, সেটি এখনি নিশ্চিত বলা যাচ্ছ না। ট্রাম্প এই বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন, যা বাতিল করতে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হবে। এর আগেও সাত বার ব্যর্থ চেষ্টার পর গত মে মাসে মার্কিন সিনেটে এরকম আরেকটি বিল উঠতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেটি নিয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ ভোটাভুটি হয়নি।
মার্কিন হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস এই ভোটাভুটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানে চালানো অবৈধ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্থায়ীভাবে যুদ্ধটি শেষ করার লক্ষ্যে এটি প্রথম পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। মিকস বলেন, ট্রাম্প যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ তো হয়েছেনই, উপরন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, যুদ্ধের কারণে সেটি অর্জন করাও আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, আজ এই (প্রস্তাবটি) পাশ হওয়ার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের ইঙ্গিত দেয় :আরো অধিকসংখ্যক রিপাবলিকান তাদের ভোটারদের কথা শুনছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ চান না। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটরা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রতি এটি একটি জোরালো এবং দ্ব্যর্থহীন বার্তা :ইরানে ইচ্ছাকৃতভাবে তার চালানো অবৈধ যুদ্ধ বন্ধ করার সময় এসেছে।’ —বিবিসি ও সিএনএন
