বিনোদন ডেস্ক : বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। এবার তাকে ৬০ কোটি রুপির অর্থ জালিয়াতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা। অর্থ জালিয়াতি মামলাটি বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি ৮২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজ কুন্দ্রাকে গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজ কুন্দ্রাকে হাজিরার নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময় চেয়ে নেয়ায়, তার হাজিরার তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু কুন্দ্রাই নন, এই মামলায় ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালের এক অডিটরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে, যিনি পূর্বে অভিযোগকারীকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন।
এই মামলার অভিযোগকারী হলেন দীপক কোঠারি, একজন ৬০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী এবং লোটাস ক্যাপিটাল ফাইন্যান্স সার্ভিসেস নামক একটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। কোঠারির অভিযোগ শিল্পা শেঠি এবং রাজ কুন্দ্রা তাকে প্রায় ৬০ কোটি রুপির একটি ঋণ-বিনিয়োগ চুক্তিতে প্রতারণা করেছেন। জানা গেছে, দম্পতি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন বলে তাদের দেশ ছাড়ার পথে সম্প্রতি লুকআউট সার্কুলার জারি করেছে ভারতের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজ কুন্দ্রা ও শিল্পা শেঠি বেস্ট ডিল টিভি প্রাইভেট লিমিটেড-এর পরিচালক ছিলেন। রাজেশ আর্যা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তারা কোঠারির কাছ থেকে ৭৫ কোটি রুপির ঋণ চেয়েছিলেন। কিন্তু কর কমাতে তারা এটিকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখান এবং মাসিক লাভসহ মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
কোঠারি ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ৩১.৯ কোটি টাকা এবং একই বছরের সেপ্টেম্বরে আরও ২৮.৫৩ কোটি রুপি ওই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, কোম্পানিটি ঋণ খেলাপি হয়ে ২০১৭ সালে দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়ায় চলে যায়। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবসার জন্য নেওয়া এই অর্থ দম্পতি ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেছেন।
তবে, দম্পতির আইনজীবীর দাবি, এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং পুরনো লেনদেনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, কোম্পানিটি আর্থিক সংকটে পড়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় পড়েছিল, কিন্তু কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এই মামলায় জুহু থানায় ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি মোট ৬০.৪৮ কোটি রুপি শিল্পা-রাজের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন, যা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে ব্যক্তিগতভাবে খরচ করা হয়েছে।
