অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডের জেনেভা সফরে যেতে পারেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের বিনিময়ে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষ ইতোমধ্যে একটি খসড়া পাঠ্যের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেনেভায় সমঝোতা স্মারক সই হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে আরও ৬০ দিনের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জোর দিচ্ছেন। সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করা, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তেহরান থেকে সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব নিয়ে কাতারি প্রতিনিধিদলের প্রত্যাবর্তনকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কাছাকাছি’ পৌঁছেছে, তবে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালির কাছে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। তবে উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
