হাসান আমিন : মার্কিন শুল্কের চাপে রপ্তানি কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হারে সংকুচিত হয়েছে। তবে পরিবার ও সরকারি খরচ বৃদ্ধির কারণে ধাক্কাটা কিছুটা হলেও সামলানো গেছে বলে গত ২৯শে আগস্ট, শুক্রবার জানায় স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা।
তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক হারে ১.৬ শতাংশ কমেছে। এর আগে প্রথম প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধিও সংশোধিত হয়ে ২ শতাংশে নেমে আসে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতি বার্ষিক হারে গড়ে ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই সংকোচন গত সাত প্রান্তিকের মধ্যে প্রথম।
সুদের হারে কাটছাঁটের সম্ভাবনা : অর্থনীতির প্রত্যাশার চেয়ে বড় ধাক্কা সেপ্টেম্বরে ব্যাংক অব কানাডার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। টানা তিন বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতির সুদহার ২.৭৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছিল। ব্যাংক অব কানাডা জুলাইয়ের অর্থনৈতিক নীতির প্রতিবেদনে ধারণা দিয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশের মতো কমতে পারে। তবে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অর্থবাজারে সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ৪৮ শতাংশে উঠে গেছে, যা প্রকাশের আগে ছিল ৪০ শতাংশ।
জুন মাসেও উৎপাদন হ্রাস : স্ট্যাটিস্টিকস কানাডা জানিয়েছে, জুন মাসে অর্থনীতি মাসিক ভিত্তিতে ০.১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল পণ্য উৎপাদন খাতে আউটপুটের পতন, যা কানাডার জিডিপির এক-চতুর্থাংশ।
রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ০.৬ শতাংশ সংকোচন এবং জুনে ০.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ : সিআইবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রæ গ্রানথাম প্রতিবেদনে বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো প্রান্তিকের শেষ দিকে এবং তৃতীয় প্রান্তিকের শুরুতে অর্থনীতির দুর্বল গতি। এ কারণে আমরা সেপ্টেম্বরে ব্যাংক অব কানাডা সুদের হার ০.২৫ শতাংশ কমাতে পারে বলে ধারণা করছি, যদিও আগামী সপ্তাহের কর্মসংস্থান তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্যদিকে, ব্যাংক অব মন্ট্রিয়লের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বেঞ্জামিন রেইৎজেস বলেন, “শুল্ক বৃদ্ধির ফলে কানাডার অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমস্যায় পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে দেশীয় খাতে যে শক্তি দেখা যাচ্ছে, তা কিছুটা হলেও আশাব্যঞ্জক। যদিও এই ধারা কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন প্রশ্ন।”
রপ্তানি ও বিনিয়োগে ধস
দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার রপ্তানি ৭.৫ শতাংশ কমেছে, যা গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় পতন। একই সময়ে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামে ব্যবসায়িক বিনিয়োগও ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে—যা মহামারির পর প্রথম সংকোচন।
দেশীয় চাহিদায় ভরসা
অন্যদিকে দেশীয় চাহিদা ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে পারিবারিক খরচ ৪.৫ শতাংশ, আবাসন খাতে বিনিয়োগ ৬.৩ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয় ৫.১ শতাংশ বেড়েছে।
সামনে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও দেশীয় খাতে কিছুটা গতি আছে, রপ্তানিতে পতন এবং বিনিয়োগ হ্রাস ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। ব্যাংক অব কানাডা তাদের জুলাইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্থনীতি “প্রায় একই ধারা”তে চলছে। তবে সেপ্টেম্বরে সুদের হারে কাটছাঁট হবে কিনা, তা নির্ভর করবে আসন্ন কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতি তথ্যের ওপর। সিবিসি নিউজ
