অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ওই চিঠিতে পেজেশকিয়ান সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করেননি।
চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, সম্প্রসারণ, উপনিবেশবাদ বা আধিপত্য বিস্তারের পথ বেছে নেয়নি। ইরান কখনোই আগে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে যারা ইরানকে আক্রমণ করেছে, তাদের অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করেছে।’
খোলা চিঠিতে তিনি ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, ইরানকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরা ‘ঐতিহাসিক বাস্তবতার’ সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘ইরানের নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট’ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন। নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প এই দাবি করেছিলেন। কিন্তু ওই শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে তাকে পূর্বসূরিদের তুলনায় ‘অনেক কম উগ্রপন্থি এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘যখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত, মুক্ত ও পরিষ্কার থাকবে তখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বিবেচনা করবে।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিতে প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘ইরান তার নাম সত্তা আর পরিচয়ের দিক থেকে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও ধারাবাহিক এক সভ্যতা।’
পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করেননি। আমেরিকা, ইউরোপ ও প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর জনগণের প্রতি ইরানের জনগণের কোনো শত্রুতা নেই। তিনি লেখেন, “সংঘাত’ ও ‘বাগদানে’র মধ্যে কোনটি ঠিক; আগামীর প্রজন্ম নির্ধারণ করবে।”
ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার পেছনে বহিরাগত স্বার্থ কাজ করছে বলে দাবি করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখানো ঐতিহাসিক বা দৃশ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের ধারণা মূলত ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খেয়ালখুশির ফসল। নিজেদের চাপ সৃষ্টিকে বৈধতা দেওয়া, সামরিক আধিপত্য বজায় রাখা, অস্ত্র শিল্প টিকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি ‘শত্রু’ তৈরির প্রয়োজন থেকেই এমনটা করা হচ্ছে।’
