অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আরও নিরাপদ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। রোববার (৪ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে একথা বলেন তিনি। খবর সিএনএন।
পোস্টে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বকে আরও নিরাপদ করবে না। বরং এটি (ভেনেজুয়েলায় অভিযান) উল্টো ফল দেবে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন পৃথিবীর যেকোনো দেশকে অন্য কোনো দেশ আক্রমণ করার, সম্পদ দখল করার বা সরকার পরিবর্তন করার সুযোগ করে দেবে।’
প্রবীণ এই সিনেটর ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ইউক্রেনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগ্রাসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।বার্নি বলেন, ‘আসুন আমরা কোনো ভুল না করি। এটি স্রেফ নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদ। এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপের সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়, যা এক ভয়াবহ কলঙ্ক রেখে গেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বের উচিত এর নিন্দা জানানো এবং তারা তা করবেও।’
এর আগে, কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন জায়গায় শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় এদিন ভোর ৪টা ২১ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য জানান।
ট্রাম্প লেখেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরতে এক ‘দুঃসাহসিক অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্সসহ মার্কিন এলিট সেনারা মাদুরোর ‘সেফ হাউস’ বা নিরাপদ আবাসস্থল থেকে তাকে ও তার স্ত্রীকে তুলে আনেন।
এর পর থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রীর হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজে ‘আটক’ মাদুরোর ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, মাদুরোর চোখ বাঁধা ও হাতে হাতকড়া। পরনে ধূসর রঙের নরম কাপড়ের তৈরি ট্রাউজার-জ্যাকেট। বলা হয়, ছবিটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমায় তোলা।
শনিবার ভোরেই কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টারে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নেওয়া হয়। গন্তব্য ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইডব্লিউও জিমা। ক্যারিবীয় সাগরের কোনো এক অজানা জায়গায় যুদ্ধজাহাজটি অবস্থান করছিল। এরপর যুদ্ধজাহাজটি মাদুরোকে কিউবার গুয়ানতানামো বে মার্কিন নৌঘাঁটিতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উড়োজাহাজে করে মাদুরোকে নেওয়া হয় নিউইয়র্কে।

