অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার আগ্রাসন চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে। আপাতত সেখানেই মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে মাদুরোকে বন্দি করে রাখা হবে।
ইতিমধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাম্পের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। শিকাগো এবং ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় মার্কিন সেনার অভিযানের বিরুদ্ধে যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাদের অনেকের মুখেই তেল সংক্রান্ত স্লোগান শোনা গিয়েছে। কেউ বলছিলেন, ‘তেলের জন্য রক্ত চাই না’, কেউ আবার বলছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না’। শিকাগোর ফেডেরাল প্লাজার সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের একজন চিৎকার করে বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।’
‘নো ব্লাড, নো অয়েল’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও। লস অ্যাঞ্জেলস ও লাস ভেগাসে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনা ডিসিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন, মিনেপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপীও তীব্র প্রতিবাদ দেখা গেছে। প্যারিস, রোম, সান্তিয়াগো, আঙ্কারা ও এথেন্সে বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার ভেনেজুয়েলার উপর ট্রাম্পের আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা প্যারিসে রাস্তায় নেমেছিল, অনেকে তাকে ‘অত্যাচারী’ বলে অভিহিত করেছিল। শনিবার চিলির সান্তিয়াগোতে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়। রোববার স্পেনের মাদ্রিদে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা ‘আগ্রাসী ট্রাম্প’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন। রোববার তুরস্কের আঙ্কারায়ও শত শত বিক্ষোভকারী বিক্ষোভে অংশ নেয়।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প যে অভিযান চালিয়েছেন, আমেরিকানেরা তার জন্য সম্মতি দেয়নি। কোনও ভোটাভুটি নয়। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার জন্য আমেরিকার নাগরিকেরা অনেকেই ক্ষুব্ধ। ভেনেজুয়েলার আদালত অবশ্য ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে আপাতত সে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ করেছে। ডেলসি অবিলম্বে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সামনে মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ভেনেজুয়েলাকে এবং তার প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষা করবেন বলে দাবি করেছেন।

