অনলাইন ডেস্ক : হিন্দু কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে একটি তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কমিশন। ভারতের বাইরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আদর্শের বিস্তার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই তদন্ত শুরু হয়েছে দেশটিতে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়ার দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, হিন্দু কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সাই পরাবস্তু এবং গণমাধ্যম প্রধান নীলিমা পরাবস্তুসহ সংগঠনটির নেতারা সামাজিক মাধ্যম এক্স এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইসলাম-বিদ্বেষী পোস্ট করেছেন। অভিযোগে উল্লেখিত অন্যান্য পোস্টগুলিতে বিশেষভাবে ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চরম ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে।
ইসলাম-বিদ্বেষী বেশ কয়েকটি প্রোপাগান্ডামূলক পোস্টে বলা হয়, মুসলমানরা ‘স্বভাবগতভাবে অপরাধী, বিপজ্জনক, হিংস্র বা খারাপ’, তারা ‘শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বলদের শিকার করে থাকে’।অভিযোগে মে ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে শেয়ার করা পোস্টগুলির একটি সিরিজ তুলে ধরা হয়েছে। এসব পোস্টে মুসলিমদের সম্পর্কে অব্যাহতভাবে ক্ষতিকারক মন্তব্য করা হয়েছে।
বিতর্কিত বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে চার্লি কার্ক এবং টমি রবিনসনের মতো কট্টর ডানপন্থী ব্যক্তিত্বদের পোস্ট। সেইসাথে ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা মুসলিম সহ নির্দিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই পোস্টগুলিতে মুসলিমদেরকে সহজাতভাবে হিংস্র, বিপজ্জনক এবং সমাজের জন্য হুমকি হিসাবে চিত্রিত করা হয়েছে।
তদন্তাধীন পোস্টগুলির মধ্যে একটিতে টমি রবিনসনের একটি বিবৃতি রয়েছে। নীলিমা পরাবস্তু এটি শেয়ার করে আমেরিকাকে ‘ইসলাম যেসব সমস্যা নিয়ে আসছে’ সে সম্পর্কে সতর্ক করেন। অভিযোগে বলা হয়, এই ধরনের বাগাড়ম্বর ভয় এবং ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করে, মুসলিমদের সম্পর্কে বিপজ্জনক সাধারণীকরণ ছড়িয়ে দেয় এবং তাদের পশ্চিমা সমাজের জন্য ‘শক্তিশালী হুমকি’ হিসাবে চিহ্নিত করে।
হিন্দু কাউন্সিলের কার্যক্রম শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিমদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিবৃতিও দিয়েছে সংগঠনটি। এমন অভিযোগের পর মূলত বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকার কমিশন।
সাই পরাবস্তু অস্ট্রেলিয়ান স্কুলগুলি থেকে মুসলিমদের নামাজের ঘর অপসারণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও, হিন্দিতে দেওয়া পোস্টগুলি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিভাজন সৃষ্টিকারী বয়ান আরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিদেশে হিন্দুত্ববাদী বাগাড়ম্বরের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলেছে।
হিন্দু কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়ার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক প্রকাশ্য ক্ষমা, সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে আপত্তিকর বিষয়বস্তু অবিলম্বে অপসারণ এবং মুসলিমদের ভবিষ্যৎ মানহানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দাবি করেছে অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট ইসলামোফোবিয়া। তারা এই ক্ষতিকারক কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণার জন্য ক্ষতিপূরণও চেয়েছে।

