হাসান আমিন : প্রথমবারের মতো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় এফ-১৫ যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে জাপান। দেশটির প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল নাকাতানি জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সফরের অংশ হিসেবে চারটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পরিবহন বিমান ও একটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কানাডা, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে মোতায়েন করা হবে। খবর : আনাদোলু এজেন্সির।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী সংবিধানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাপানের সেনা মোতায়েন সীমিত ছিল। তবে নাকাতানি বলেন, এই সফর “ইউরো-আটলান্টিক ও ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য”- এ উপলব্ধিকে প্রতিফলিত করছে। তিনি আরও জানান, “আমরা অংশীদার দেশগুলোর বিমান বাহিনীর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করার চেষ্টা করব।”
চিতোসে বিমানঘাঁটি (হোক্কাইডো) থেকে যাত্রা শুরু করবে যুদ্ধবিমানগুলো। প্রথম বিরতি হবে কানাডায়, এরপর যুক্তরাজ্য এবং সবশেষে জার্মানি। পথে আলাস্কার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একটি বিরতি নেওয়া হবে। যদিও সফরে যৌথ মহড়া থাকছে না, তবুও এ সফরকে প্রতিরক্ষা ক‚টনীতির একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলির সা¤প্রতিক জাপান সফরেই এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাড়তি সামরিক কার্যক্রমের কারণে জাপান ধীরে ধীরে তার প্রতিরক্ষা নীতি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত করছে।
নাকাতানির নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী অর্থবছরের জন্য ৮.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৫৯.৯ বিলিয়ন ডলার) বাজেটের প্রস্তাব করেছে, যা জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর।
বর্তমানে জাপানে ৫০,০০০-এর বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে ন্যাটোসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এ পদক্ষেপ পশ্চিমা প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা একদিকে চীন ও উত্তর কোরিয়াকে কড়া বার্তা দেবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

