অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের অস্থিরতা ও রদবদল অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান (আর্মি চিফ অফ স্টাফ) জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের পর এবার আরও দুজন শীর্ষস্থানীয় সেনা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে উত্তেজনা ও অস্থিরতা আরও তীব্র হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেনারেল হোডনি অতি সম্প্রতি গত অক্টোবর মাসে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর ‘ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি চার-তারকা পদের নেতৃত্বে ছিলেন, যা মূলত বাহিনীর আধুনিকায়ন ও রণকৌশল নির্ধারণে কাজ করে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর প্রধান যাজক (টপ চ্যাপলিন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে বরখাস্ত হওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত করেছিলেন। সাধারণত মার্কিন সেনাপ্রধানের মেয়াদ চার বছর হলেও মেয়াদের আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে পিট হেগসেথের এই কঠোর অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একের পর এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণ বা সরিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা বাহিনীর স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট— কোন কারণে এই গণ-বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।

