অনলাইন ডেস্ক : জাস্টিন ট্রুডো যখন কানাডার রাজনীতির মঞ্চে পা রাখেন, তখন থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে সম্পর্কটি অনেকেই দেখতেন স্বপ্নের এক রূপকথা হিসেবে।
তাই ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা অনেককেই চমকে দিয়েছিল। এতটা বছর একসঙ্গে কাটিয়ে, সন্তানদের হাসি-আনন্দের মুহূর্ত ভাগাভাগি করে হঠাৎ বিচ্ছেদÑ প্রশ্ন তুলেছিল অনেকের মনে।

ট্রুডো ও সোফির প্রথম দেখা শৈশবে, যখন সোফি ছিলেন ট্রুডোর ছোট ভাই মিশেলের স্কুলসাথী। তবে প্রেমের শুরু অনেক পরে, ২০০৩ সালে, একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে। ট্রুডো তখন ৩১, সোফি ২৮। সেই প্রথম আলাপে তৈরি হয় গভীর সংযোগ। ট্রুডো মুগ্ধ হন সোফির উচ্ছলতা, সমাজসচেতনতা ও মেধায়। সোফি ট্রুডোর মধ্যে দেখেন এক ‘আত্মার আয়না’।
২০০৪ সালের অক্টোবরে বাগদান, পরের বছর ২৮ মে মন্ট্রিলে বিয়ে। তাঁদের বিবাহিত জীবন ছিল জনচক্ষুতে প্রশংসিত। সন্তান তিনটি- জেভিয়ার (২০০৭), এলা-গ্রেস (২০০৯) ও হ্যাড্রিয়েন (২০১৪)- নিয়ে ছিল এক পরিপূর্ণ পরিবার। সোফি শুধু জীবনসঙ্গীই নন, ছিলেন ট্রুডোর রাজনীতির শক্ত ভিত। নারীর অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে সোফি ছিলেন সক্রিয়।
২০২৩ সালের ২ আগস্ট, ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন ট্রুডো। পোস্টে জানান, ‘গভীর ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে’ তাঁরা আলাদা হচ্ছেন। বিচ্ছেদের কারণ বিস্তারিত জানানো না হলেও ধারণা করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের চাপে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সন্তানদের যৌথ লালনপালনে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন- এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দুজনেই।
জাস্টিন ট্রুডোর রাজনৈতিক রক্তে বইছে ঐতিহ্য। তাঁর বাবা পিয়েরে ট্রুডো ছিলেন কানাডার প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে জাস্টিন প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর শাসনকালে কানাডায় উদার অভিবাসননীতি, জলবায়ু উদ্যোগ, আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ হয়। তবে করোনা মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপে তাঁর জনপ্রিয়তা পড়ে যায়।
জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা, দলের ভেতর থেকে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের পদত্যাগ- সব মিলে ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান ট্রুডো। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি।

সোফি এখন একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকছেন সন্তানদের কাছাকাছি। তিনি দাতব্য সংস্থা, নারীর অধিকার এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন। প্রকাশ করেছেন বই: ঈষড়ংব ঞড়মবঃযবৎ: কহড়রিহম ঙঁৎংবষাবং, খড়ারহম ঊধপয ঙঃযবৎ—যা বেস্টসেলার হয়েছে। থেরাপি, যোগব্যায়াম ও ধ্যান তাঁর জীবনের অংশ। স¤প্রতি তাঁকে দেখা গেছে এক শিশু সার্জন, মার্কোস বেত্তোলির সঙ্গে- যা নতুন সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এখন আর এমপি নন, তবে আলোচনার বাইরে যাননি। কেটি পেরির কনসার্টে উপস্থিতি এবং পরে একান্ত ডিনারে তাঁদের সময় কাটানো নিয়ে শুরু হয় প্রেমের গুঞ্জন। যদিও রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মতে, তাঁরা প্রেমিক-প্রেমিকার মতো আচরণ করেননি। তবে মিডিয়া তো থেমে থাকে না। ট্রুডো ও সোফি একসময় ছিলেন ‘পাওয়ার কাপল’। আজ তাঁরা নিজেদের পথ খুঁজছেনÑ কেউ হয়তো নতুন সম্পর্কে, কেউ হয়তো আত্মজিজ্ঞাসার পথে। তবে তাঁদের গল্প নিঃসন্দেহে আধুনিক সমাজে সম্পর্ক, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্ব›েদ্বর প্রতিচ্ছবি।
(তথ্যসূত্র: কসমোপলিটন, পিপল, নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স)

