অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে বড় ধরনের অচলাবস্থার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ভেন্যু। স্টেডিয়ামে দেশটির কেন্দ্রীয় অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট বা ‘আইস’ (ICE – Immigration and Customs Enforcement) কর্মকর্তা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন স্টেডিয়ামের কর্মীরা।
লস অ্যাঞ্জেলেসের বিশ্বখ্যাত ‘সোফাই স্টেডিয়াম’ (যা টুর্নামেন্ট চলাকালীন ‘লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত হবে) আগামী জুন ও জুলাই মাসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ মোট আটটি ম্যাচের স্বাগতিক। তবে ভেন্যুটিতে আইসের উপস্থিতি কর্মী এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে একটি ‘আতঙ্কের পরিবেশ’ তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রায় দুই হাজার আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ইউনিয়ন ‘ইউনাইট হেয়ার লোকাল ১১’ (UNITE HERE Local 11) সোমবার ফেডারেল সরকারের কাছে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেছে, যেন বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন এই সংস্থাকে মোতায়েন না করা হয়।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়া স্টেডিয়ামের বাবুর্চি আইজ্যাক মার্টিনেজ বলেন, “বিশ্বকাপের মতো আসরে আইসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয়। আমরা কাজে আসার সময় বা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আটক হওয়ার ভয়ে দিন কাটাতে চাই না। যদি চুক্তিতে না আসা যায়, তবে আমি ও আমার সহকর্মীরা ধর্মঘটে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
বিক্ষোভকারী কর্মীরা মূলত খাবার ও পানীয় পরিবেশন শাখার সাথে যুক্ত। তারা ফিফার অ্যাক্রেডিটেশন (অনুমোদন) প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্টের আগে কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হয়। কর্মী ইয়োলান্ডা ফিয়েরো দাবি করেন, “আমরা ফিফাকে অনুরোধ করছি যেন আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য আইস, কোনো বিদেশী রাষ্ট্র বা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে শেয়ার না করা হয়।”
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে আইস দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদের ডেমোক্রেটিক প্রার্থী টম স্টেয়ার এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “আইসের কাজ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা। বিশ্বকাপের সাথে এর কী সম্পর্ক? ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মীদের জন্য তারা একটি আইনহীন হুমকি।”
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। তার ঠিক আগমুহূর্তে লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে কর্মীদের এই ধর্মঘটের ডাক টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
