অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বড় সমঝোতা হয়ে গিয়েছে এবং এখন শুধু শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষা। চলতি সপ্তাহের শেষেই এই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে দাবি করেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি বড় সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছি। এই সমঝোতা একটা শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পথে আমাদের নিয়ে যাবে।”
“চুক্তি স্বাক্ষর করামাত্র হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে যাবে। শিগগির এবং খুব শিগগিরই, ইউরোপের স্থানীয় সময় অনুযায়ী হয়তো এ সপ্তাহের শেষেই আমরা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব।”
প্রস্তাবিত এই চুক্তি সম্পর্কে ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সব মিত্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও বৃহস্পতিবারের মত বিনিময়ের সময় জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
“আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না— এমন নিশ্চয়তা। এই যে এত কিছু ঘটলো, এসবের মূল উদ্দেশ্য একটি শান্তি চুক্তিস্বাক্ষর। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে হামলার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাহার করেছেন তিনি। ওভাল অফিসে ব্রিফিংয়ের সময় এ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, চুক্তির চূড়ান্ত পয়েন্টগুলো নিয়ে আলেচনা করতেই হামলার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৮ ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প, কাগজে-কলমে এখনও সেই বিরতি চলছে।
‘ইরানের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে’— ট্রাম্পের এমন দাবি অবশ্য এই প্রথম নয়। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত একাধিকবার এমন দাবি করেছেন তিনি।
সূত্র : এএফপি/এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

