অনলাইন ডেস্ক : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্কেদ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। এই আমন্ত্রণকে ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা, কারণ সিদ্ধান্তটি নয়াদিল্লির জন্য বড় ধরনের ভারসাম্যের পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহর এবং ইরাকে খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তেহরান, কোয়ম ও মাশহাদে একাধিক পর্ব শেষে তাঁকে ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যক্তিগতভাবে মোদিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। তবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা ভারতের জন্য সহজ নয়।
কারণ, একদিকে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের জ্বালানি, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে চাবাহার বন্দর ভারতের জন্য মধ্য এশিয়া ও আফগানিস্তানে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও গভীর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির জানাজায় মোদির উপস্থিতি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবে ভুল বার্তা দিতে পারে। আবার পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকলে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও আছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বড় শিয়া জনগোষ্ঠীর আবেগও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কূটনৈতিক সূত্র বলছে, মোদির ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এর বদলে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর পথেই হাঁটতে পারে ভারত। এখন নজর, নয়াদিল্লি কীভাবে এই সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য সামলায়।
