অনলাইন ডেস্ক : চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার বলেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য চীনের অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে একটি টেকসই সম্পর্ক গড়ে তোলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের আগে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক ভারসাম্য হারিয়েছে। তার অভিযোগ, চীন বিপুল পরিমাণ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করলেও মার্কিন পণ্যের প্রবেশে নানা ধরনের বাধা তৈরি করে রেখেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও স্থানীয় শিল্প খাত চাপে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রিয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে একটি কার্যকর সমতা আনার কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুশৃঙ্খল করা। বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং শুল্কনীতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক যুদ্ধ এবং পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই স্থানীয় শিল্প রক্ষায় চীনা পণ্যের ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বেইজিংও পাল্টা শুল্ক আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে জেমিশন গ্রিয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তুলনামূলক নমনীয় হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি চীনের প্রতি একটি বার্তা যে ওয়াশিংটন এখন সংঘাতের পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায়। আলোচনায় অগ্রগতি হলে তা বিশ্ববাজারের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের নজর রয়েছে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের দিকে। এই সফর দুই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

