অনলাইন ডেস্ক : ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, শনিবার (৪ এপ্রিল) যুদ্ধবিরোধী এই বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে আসেন শত শত ইসরায়েলি।
এর আগে হাইকোর্ট অফ জাস্টিসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পুলিশকে আইডিএফ হোম ফ্রন্টের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে বড় পরিসরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও এমন সুযোগ দিতে আপত্তি জানিয়েছিল ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আইডিএফ। তাদের যুক্তি ছিল, ইরান, হিজবুল্লাহ এবং হুতিদের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মধ্যে এটি নিরাপদ হবে না।
তবে, এদিন রাত ৯টার ঠিক আগে পুলিশ জানায়, তেল আবিবের হাবিমা স্কোয়ারের মূল বিক্ষোভে আদালতের নির্ধারিত ৬০০ বিক্ষোভকারীর সীমা অতিক্রম করে। পুলিশ এই অনুষ্ঠানকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য সতর্কবার্তা বেজে ওঠে এবং একটি বাসে আটক থাকা বন্দিদের একটি নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে, আটককৃতরা দাবি করেছেন যে, তাদের একটি অরক্ষিত কক্ষে রাখা হয়েছিল।
এদিকে ইসরায়েলের ইহুদি একটি গোষ্ঠী সেফার্ডিকের প্রধান রাব্বি ডেভিড ইয়োসেফ সমাবেশগুলো চলতে দেয়ার অনুমতি দেয়ায় বিচারকদের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হাইকোর্টকে “ইহুদি ধর্মের শত্রু” বলে অভিহিত করেন এবং এই বিষয়টির ওপর তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারের অনেক বিক্ষোভকারী ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে তারা ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বিধান রাখার নতুন পাস হওয়া আইনের নিন্দা জানান।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন জোট নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধকে ব্যবহার করেছে। তাদের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বিচ্ছিন্নতার সরকার, দেশের অভ্যন্তরভাগ নীরব, যুদ্ধের আড়ালে তারা দেশ লুট করছে।’ বিক্ষোভকারীদের আরেকটি দল কমলা রঙের কয়েদির পোশাক এবং ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন জোটের বিভিন্ন মন্ত্রীর কার্ডবোর্ডের মুখোশ পরেছিল এবং নকল ডলারের নোট নাড়াচ্ছিল।

