অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া অর্থনৈতিক বিক্ষোভের মধ্যেই দেশটিকে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা ও সাবেক দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি শামখানি বলেছেন, ‘ইরানের নিরাপত্তা বলয়ের খুব কাছাকাছি এলে যেকোনো হস্তক্ষেপকারীর হাত কেটে ফেলা হবে।’
এক প্রতিবেদনে এপি জানিয়েছে, ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শুক্রবার (২ জানুয়ারি) একে অপরের প্রতি পাল্টাপাল্টি হুমকি বিনিময় করেছেন। ট্রাম্প প্রথমে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘যদি দেশটি (ইরান) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সহিংসভাবে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে।’
ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের পতনের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যেকোনো মুহূর্তে ব্যবস্থা নিতে পারি।’
ট্রাম্পের হুমকির কিছুক্ষণ পরই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে।
লারিজানি লেখেন, ‘ট্রাম্পের জানা উচিত, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অরাজকতা সৃষ্টি করবে এবং মার্কিন স্বার্থ ধ্বংস করবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জানা উচিত, এই দুঃসাহসিকতার সূচনা করেছেন ট্রাম্প নিজেই। তাদের নিজেদের সেনাদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবা উচিত।’
লারিজানির মন্তব্যে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতির কথাই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়।
পরে শামখানিও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকানদের ‘‘উদ্ধার’’-এর অভিজ্ঞতা ইরানের জনগণ ভালোভাবেই জানে। ইরাক, আফগানিস্তান থেকে শুরু করে গাজা পর্যন্ত।’
ইরানে চলমান এই বিক্ষোভ ছয় দিনে গড়িয়েছে এবং এটি ২০২২ সালের পর ইরানের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ৪ বছর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এবারের আন্দোলন এখনও পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েনি এবং মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরের বিক্ষোভের মতো তীব্রও নয়।

