অনলাইন ডেস্ক : হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতা নিয়ে আগামী ২২ জুন আবার বৈঠকে বসবে দুই দেশ।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ হওয়াসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সমঝোতা কার্যকর হবে। খবর বিবিসির।
এমন এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে, যখন বুধবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ছুড়ে এপ্রিল মাসে হওয়া নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দুই দেশের সার্বভৌম সরকারই নির্ধারণ করবে। সব পক্ষ এ বিষয়ে একমত হয়েছে। কোনো শক্তি যেন লেবাননের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করতে না পারে, সেটিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।’
চুক্তির আরেকটি শর্ত হলো, লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের যে এলাকায় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, সেখান থেকে হিজবুল্লাহর সব সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনীকে একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিতে ‘পাইলট জোন’ গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে সোমবার একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা না চালালে ইসরায়েল বৈরুতে বড় ধরনের বোমা হামলা থেকে বিরত থাকবে।
দুই দেশ আগামী ২২ জুন আবার বৈঠকে বসবে। লক্ষ্য থাকবে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি লেনাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির আশা করছে ওয়াশিংটন।
এদিকে চলতি সপ্তাহেই উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আংশিক যুদ্ধবিরতি চাপে পড়ে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বুধবার ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে দুজন ছিলেন প্যারামেডিক, যাদের অ্যাম্বুলেন্স দক্ষিণাঞ্চলের চেহৌর এলাকায় লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। বৈরুতের দক্ষিণেও একটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
বুধবারের ঘোষণার আগে ইসরায়েলের নেতারা সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহে আবারও ব্যাপক হামলা চালানো হবে।
তবে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি মঙ্গলবার বলেন, ‘কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি। শুধু দাহিয়েহকে সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন-ইসরায়েল আলোচনায় গৃহীত কোনো সিদ্ধান্তই হিজবুল্লাহ মানতে বাধ্য নয়।
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করলে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এরপর লেবাননজুড়ে বিমান হামলা এবং দক্ষিণাঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ইসরায়েলের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেশের এক-অষ্টমাংশেরও বেশি এলাকা জুড়ে কার্যকর রয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে সীমান্তের দুই পাশে তাদের ২৬ সেনা ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

