অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫ শক্তিশালী দেশ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেশগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক বার্তায় বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের জনগণকে তাদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যখন তার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে, ঠিক তখনই এই উদ্যাপনটি অনুষ্ঠিত হলো।
শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন স্বপ্নে প্রোথিত বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। আমরা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে আমাদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করি। বাংলাদেশ যখন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উদযাপন করছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
চীন
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতিকে জানানো অভিনন্দন বার্তায় শি জিনপিং বলেন, চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার। দুই দেশ সর্বদা একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার সঙ্গে আচরণ করেছে, পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা করেছে এবং রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মডেল স্থাপন করেছে।
শুভেচ্ছা বার্তায় চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা ও বিনিময়কে উন্নত করা এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
এছাড়াও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং কমনওয়েলথের বন্ধন দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর পরিশ্রম ও অংশগ্রহণ যুক্তরাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেন তিনি।
রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও সহজ হবে। সেই সঙ্গে শুভেচ্ছা বার্তায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করে এ ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারত
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
শুভেচ্ছা বার্তায় দ্রৌপদী মুর্মু ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, এটি আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারির ভিত্তিকে রূপদান করে।
ইতালি
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছে। এই দিনে আমি ইতালির প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে উষ্ণতম অভিনন্দন জানাচ্ছি।
শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও রোম বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ সহযোগিতায় নিযুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে আগত বৃহৎ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে, যাদের ফলপ্রসূ উপস্থিতি সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলোরও বিষয়বস্তু। আমি আশা করি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং এটি প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। যা উভয় দেশের জনগণের জন্য উপকারী হবে এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এই নতুন পর্যায়কে সমর্থন করবে।

