অনলাইন ডেস্ক : ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। বিশেষ করে সার ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে দায়ী করছেন তারা।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ট্যামি বাল্ডউইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইরানে ট্রাম্পের পছন্দের এ যুদ্ধ আমাদের কৃষকদের জন্য সার ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।” তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও জ্বালানি খাতে পড়ছে।
বিশ্বের বড় একটি অংশের সার উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে রপ্তানি হয়। এসব চালান মূলত হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়ে। এর প্রভাব দ্রুত জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের বাজারে ছড়িয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার বলেন, গ্যাসের দাম থেকে শুরু করে বাসস্থান ব্যয়—সব ক্ষেত্রেই এই যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। তার অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় কমার পরিবর্তে উল্টো বাড়ছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, “এই যুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য নেই।” তার দাবি, যুদ্ধের আর্থিক চাপ ইতোমধ্যে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর পড়তে শুরু করেছে এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের মাধ্যমে মানুষ এর খেসারত দিচ্ছে।
মার্ক কেলি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জন্য জীবনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দিলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ, জাহাজ চলাচল এবং কৃষিখাতের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে হোয়াইট হাউস এখনো ডেমোক্র্যাট নেতাদের এসব মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই দাবি করে আসছে, ইরানকে ঘিরে তাদের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার অংশ। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

