অনলাইন ডেস্ক : ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ সরাসরি চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পরিস্থিতি জটিল হলেও বেইজিং এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পথ থেকে দূরে রয়েছে।
১৬ এপ্রিল আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম বলেছেন, চীন একদিকে ইরানকে পুরোপুরি একা ফেলতে চায় না, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকিও নিতে আগ্রহী নয়। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে চীনের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। তাই বেইজিং এখন কূটনৈতিক ও পরোক্ষ সহায়তার কৌশল অনুসরণ করছে।
তার মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানবিরোধী কয়েকটি প্রস্তাব আটকে দিতে ইতোমধ্যেই ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করেছে চীন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগে বেইজিং বাধা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকাশ্যে সামরিক সহায়তা না দিলেও পর্দার আড়ালে ইরানকে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা কয়েকটি চীনা কোম্পানির মাধ্যমে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন অধ্যাপক সেলুম।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখতে কৌশলগতভাবে ইরানের পাশে অবস্থান নিতে চাইছে বেইজিং। তবে এই অবস্থান চীনের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল জাজিরা
