অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইউক্রেনের প্রায় ৭৮ শতাংশ এলাকা এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বদলে আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথ খোঁজার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, এখনই যুদ্ধ থামানো উচিত উভয় পক্ষের। তার মতে, অব্যাহত যুদ্ধ শুধু প্রাণহানি বাড়াবে এবং শান্তির সম্ভাবনা আরও দূরে সরিয়ে দেবে। আল জাজিরা জানায়, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের একটি বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “উভয় পক্ষেরই এখন যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত। সবাইকে ঘরে ফিরতে হবে, মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সমাধান বের করা কঠিন হয়ে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “ডনবাস অঞ্চলের বর্তমান অবস্থা যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখা হোক। আমার বিশ্বাস, রাশিয়া ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।”
তবে ইউক্রেনের অবস্থান স্পষ্ট—তারা রাশিয়ার দখল থেকে পুরো ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প নিজেও এক সময় বলেছিলেন যে, ইউক্রেন সামরিকভাবে জয়লাভ করে ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ দখলকৃত সব অঞ্চল ফেরত নিতে সক্ষম হবে। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি অনেকটাই নরম সুরে কথা বলেছেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ ও সমঝোতার ওপর জোর দিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প এবার কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হাঙ্গেরিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের আগের কঠোর নীতির তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত। ওয়াশিংটন যেখানে আগে ইউক্রেনকে পূর্ণ সমর্থন দিত, এখন সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে রাশিয়ার দাবির দিকেই কিছুটা ঝুঁকে পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

