অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইউএস ব্যুরো অফ লেবার স্ট্যাটিসটিকস-এর তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩.৩ শতাংশ, যা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এপ্রিল মাসে মাসিকভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এপ্রিলের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশই এসেছে জ্বালানি খাত থেকে। শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩.৮ শতাংশ।
খাদ্যদ্রব্যের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত মাসে খাবারের দাম বেড়েছে ০.৫ শতাংশ। এছাড়া বাড়ি ভাড়া বা আবাসন খরচ (shelter index) ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো, ব্যবহৃত গাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার মতো কিছু খাতে খরচ কিছুটা কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির এই উল্লম্ফন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুদের হার কমানোর যে পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

