স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে শেষ পর্যন্ত মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে অন্যতম ফেবারিট বেলজিয়াম। সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২৮ সেকেন্ডের মধ্যেই রোমেলু লুকাকু প্রতিপক্ষকে আত্মঘাতী গোল করতে বাধ্য করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান।
এর আগে ম্যাচের ২০তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ইমাম আশুর। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম গোল। নিজের ৩০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ডান পায়ের জোরালো শটটি বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার নাগালের বাইরে নিচের বাম কোণে জালে জড়িয়ে যায়।
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহর ৩৪তম জন্মদিনে তাকে কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। শুরু থেকেই সেই কৌশল সফল হয়। ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়কে সতর্কবার্তা দেখাতে বাধ্য করার পর সালাহ নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে দেন আশুরের কাছে, যা থেকেই আসে গোল।
প্রথমার্ধে মিশর তাদের নেওয়া দুটি শটই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে বেলজিয়াম আটটি প্রচেষ্টা চালিয়েও মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবিরকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
৩৩তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন কোর্তোয়া। প্রথমার্ধে বেলজিয়াম দুই প্রান্ত দিয়ে একাধিক আক্রমণ গড়লেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি আরও বেড়ে যায়। বেলজিয়াম আক্রমণের চাপ বাড়ায়, আর মিশর পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ৫৫তম মিনিটে সালাহর হেড থেকে প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আবারও অসাধারণ সেভ করেন কোর্তোয়া। পরে ওমর মারমুশের নেওয়া শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে শারীরিক শক্তি বাড়াতে লুকাকুকে মাঠে নামায় বেলজিয়াম। আর মাঠে নামার মাত্র ২৩ সেকেন্ড পরই ডান দিক থেকে আসা ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে উঠে এসে তিনি এমন চাপ সৃষ্টি করেন যে বল হানির পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। ফলে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
৭৫তম মিনিটে সালাহকে তুলে নেওয়া হলে তার ম্যাচ শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই জয়ের গোল খুঁজে না পেলে ১-১ সমতায় শেষ হয় রোমাঞ্চকর এই লড়াই। মিশর তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়।

