অনলাইন ডেস্ক : শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদ্বীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সৃষ্ট প্রায় দশ মাসের ক‚টনৈতিক অচলাবস্থার পর অবশেষে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে ভারত ও কানাডা।
এই টানাপড়েন নিরসনের অংশ হিসেবে উভয় দেশই পরস্পরের রাজধানীতে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ দিয়েছে। অটোয়া দিল্লির জন্য ক্রিস্টোফার কুটারকে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনে ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত দিনেশ কে পাটনায়েককে কানাডায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে মনোনীত করেছে দিল্লি।
চলতি বছরের জুনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের ক‚টনীতিক নিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতাতেই এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনান্দ জানিয়েছেন, ভারত-কানাডা সম্পর্ক জোরদারে ধাপে ধাপে এগোনোর একটি অংশ হিসেবে কুটারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, পাটনায়েক শিগগিরই অটোয়ায় তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
২০২৩ সালের জুনে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে একটি শিখ মন্দিরের বাইরে দুই আততায়ীর গুলিতে নিহত হন হরদ্বীপ সিং নিজ্জর। এর কয়েকমাস পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের হাত থাকার ‘নির্ভরযোগ্য অভিযোগ’ রয়েছে বলে দাবি করলে দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র অবনতি ঘটে। ভারত এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।
এই উত্তেজনার জেরে গত অক্টোবরে দুই দেশই একে অপরের ক‚টনীতিকদের বহিষ্কার করে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একেবারে তলানিতে নিয়ে যায়। কানাডা প্রথমে একজন ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে এবং জবাবে ভারতও একজন কানাডীয় হাইকমিশনারকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
ভারত সরকার ২০২০ সালে নিজ্জরকে খালিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে কানাডার সমালোচনা করে আসছে দিল্লি।
উল্লেখ্য, কানাডায় প্রায় সাত লাখ ৭০ হাজার শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় এক বছর ধরে চলা এই ক‚টনৈতিক সংকট সমাধানের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। সূত্র : সিবিসি নিউজ
