অনলাইন ডেস্ক : ভারতের কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং দেশটির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)। ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরএসএস ও ‘র’-এর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নিতে মার্কিন সরকারকে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
মার্কিন সংস্থাটি আরএসএসের অনুমোদিত সংস্থা বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ একাধিক সংগঠনের সম্পর্কেও বিরূপ মন্তব্য করেছে। এ ছাড়া ইউএসসিআইআরএফ সুপারিশে ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও বলেছে সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতকে বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসেবেও চিহ্নিত করতে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যেন এই নীতির আলোকে তাদের বাণিজ্যনীতি ও অস্ত্র বিক্রির সময় ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখে।
আরএসএস এবং ‘র’ বিষয়ে মার্কিন সংস্থাটির এই সুপারিশ এরই মধ্যে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে তুমুল অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ইউএসসিআইআরএফ তাদের প্রতিবেদনে এ নিয়ে টানা সপ্তমবারের মতো ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ বা বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়াসহ ১৮টি দেশের নাম রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দেশটির সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক আইন প্রয়োগ করছে।
সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউএসসিআইআরএফ যুক্তি দিয়েছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। দেশটিতে কট্টরপন্থিরা টার্গেট করছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়গুলোকে। এ ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে বড়দিনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গির্জায় হামলার ঘটনা, মণিপুরে জাতিগত দাঙ্গায় আড়াইশর বেশি গির্জায় হামলা হয় বলে একাধিক রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

