অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের জেরে সবধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে পাকিস্তান সরকার। এরমধ্যে পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম যথাক্রমে ৪৩ শতাংশ ও ৫৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন দাম ঘোষণা করেন পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক।
নতুন দাম অনুযায়ী, পেট্রোলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৩৭.২৩ রুপি (৪২.৭ শতাংশ) বাড়িয়ে ৩২১.১৭ রুপি থেকে ৪৫৮.৪১ রুপি করা হয়েছে এবং এইচএসডি প্রতি লিটারে ১৮৪.৪৯ রুপি (৫৫ শতাংশ) বাড়িয়ে ৩৩৫.৮৬ রুপি থেকে ৫২০.৩৫ রুপি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
এছাড়াও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৩৪.০৮ রুপি বাড়িয়ে ৪৫৭.৮০ রুপি করা হয়েছে।
এদিকে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাত্রী ও পন্য পরিবহনের খরচের ওপর এর প্রভাব সীমিত করতে পেট্রোলিয়াম শুল্কের হার সমন্বয় করা হয়েছে। পেট্রোলের ওপর শুল্ক প্রতি লিটারে ১০৫ রুপি থেকে বাড়িয়ে ১৬০ রুপি করা হয়েছে, অন্যদিকে ডিজেলের উপর থেকে শুল্ক ৫৫ রুপি থেকে কমিয়ে শূন্য করা হয়েছে।
পাকিস্তানের জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, সামরিক নেতৃত্ব এবং প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের বৈঠকের পর এই “কঠিন ও দায়িত্বশীল” সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিশ্রুতির অধীনে গত দুই বছরে অর্জিত আর্থিক শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সবচেয়ে যোগ্য খাতের মধ্যে ভর্তুকি সীমাবদ্ধ রাখা।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।
সূত্র: ডন
