অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশেষ আমন্ত্রণে আগামী বুধবার (১৩ মে) তিন দিনের সফরে বেইজিং পৌঁছাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ নিশ্চিত করেছে। ঘোষণা অনুযায়ী, ট্রাম্প ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই এই সফরের ঘোষণা এলো। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে যাচ্ছে এটি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সফর দুই পরাশক্তির সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান সংকটও এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প চীনকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনের প্রচেষ্টায় যুক্ত করতে চান। বিশেষ করে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি প্রভাব কাজে লাগিয়ে তেহরানকে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে রাজি করানোর কৌশল নিয়েই আলোচনায় বসবেন তিনি।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির শীর্ষ নেতাদের বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সফরে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সামরিক ব্যবহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়টি ট্রাম্প কঠোরভাবে উত্থাপন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্ক বা ট্যারিফ বিরোধ নিয়েও আলোচনা হবে। গত বছরের অক্টোবরে হওয়া বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা করবেন দুই নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী মহলও এই সফরের দিকে নজর রাখছে, কারণ চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফরকালে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’ পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তার সম্মানে বিশেষ চা-চক্র ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতীকী বার্তা বহন করছে।
মূলত গত মার্চ মাসেই ট্রাম্পের এই সফর হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠায় সফরটি পিছিয়ে দেওয়া হয়। এখন সেই সংকট আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুনরায় সফরের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প-শি বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এএফপি
