অনলাইন ডেস্ক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি নন-এসি বাস যাত্রীসহ সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় ডুবুরি দলের পাশাপাশি ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে বিশেষ দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দিচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার বুধবার রাতে জানান, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পল্টনের ওপর দিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাসটি ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে কোনো কারণে ব্রেক করতে ব্যর্থ হয় এবং তীব্র গতিতে পানিতে নিমজ্জিত হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪০ জনের বেশি যাত্রী অবস্থান করছিলেন, যাদের বেশিরভাগই বাসের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোত এবং সন্ধ্যার অন্ধকারের কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ডুবুরিরা চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। শাহজাহান সিকদার আরও জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ঢাকা সদর দফতর এবং ফরিদপুর থেকে আরও অভিজ্ঞ ডুবুরি দল ও অত্যাধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। তারা পৌঁছালে উদ্ধার কাজ আরও জোরদার হবে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই বিকট শব্দে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। চিৎকার শুরু হলেও অন্ধকার ও গভীর পানির কারণে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তেমন কাউকেই উদ্ধার করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত কতজন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বা কোনো প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কত, সে সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস বা স্থানীয় প্রশাসন এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রদান করতে পারেনি।
পদ্মার প্রবল স্রোতে বাসটি মূল দুর্ঘটনা স্থল থেকে কিছুটা সরে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘাটে বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং নিখোঁজদের স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকায় সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
