অনলাইন ডেস্ক : ঢাকায় যুব নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে ও ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামের একজন হিন্দুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে।
গত বছরের জুলাইয়ে স্বৈরাচার হাসিনার পতনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ হাদি। তাকে হত্যার পেছনে ভারতের ইন্ধন থাকতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করেন। এরপর সম্প্রতি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদীরা।
ভারত সরকারও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশ থেকে উদ্ভূত বিভ্রান্তিকর বর্ণনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এরপর মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করে। তাদের থামাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।
এর আগে ভারতের দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন কনস্যুলার সেবা ও ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। মন্ত্রনালয়ের সূত্রগুলো বলছে, গত কয়েকদিনে হাইকমিশনের সামনে ও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশের হাইকমিশন, উপদূতাবাস ও ভিসা সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যু প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমনকি হাইকমিশন বা দূতাবাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘিত হওয়ায় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ভারত সরকারের দিক থেকে আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
এর আগে শনিবার রাতে ভারতের দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বেস্টনি ভেদ করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করেছে ‘হিন্দু চরমপন্থীদের’ একটি দল। এটি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর এই প্রচারকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। কিন্তু এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
অন্যদিকে, ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার বিভাগ অনির্দিষ্টকালের জন্য মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে যে বাংলাদেশ ভিসা আবেদন কেন্দ্র আছে, সেটির কাজকর্মও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সূত্র: টিওআই।

