অনলাইন ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৪ জন। বিস্ফোরণের পরপরই মুম্বাই, জয়পুর, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখ-সহ বেশকিছু রাজ্য ও অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাল কেল্লার সামনে চাঁদনী চক মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাস তদন্ত সংস্থা- জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষীসহ (এনএসজি) স্থানীয় পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে।
দিল্লি পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ছিল। এতে বিস্ফোরিত ওই গাড়ির আশপাশের থাকা আরো তিন থেকে চারটি গাড়িতেও আগুন ধরে যায় এবং কমপক্ষে ২২টি যানবাহন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটল সে সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য দেয়নি দিল্লি পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, একটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে, অনেক গাড়ির গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেছে এবং ছিন্ন-ভিন্ন কয়েকটি লাশ মাটিতে পড়ে আছে।
স্থানীয় লোক নায়ক হাসপাতাল (এলএনজেপি) ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এখনো ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে প্রায় ২০টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণটি একটি আই২০ হুন্ডাই গাড়িতে ঘটেছিল। বিস্ফোরণে আহত অটোচালক জিশান বলেন, ‘আমার সামনের গাড়িটি প্রায় দুই ফুট দূরে ছিল। আমি জানি না এতে বোমা ছিল নাকি অন্য কিছু, তবে এটি বিস্ফোরিত হয়েছিল।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমার বাড়ির বারান্দা থেকে আমি একটি বিশাল আগুনের গোলা দেখতে পেলাম। প্রচ- শব্দ হচ্ছিল। বিস্ফোরণে আমাদের ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে।’
উল্লেখ্য, লাল কেল্লা বা লাল কিল্লা নামে পরিচিত মুঘল স্থাপত্যটি দিল্লির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে।
এদিকে, দিল্লিতে বিস্ফোরণের দিনই হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে একটি ভাড়া বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ডা. মুজাম্মিল শাকিল বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশটির একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
গত কয়েক দিনে হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। অভিযানে দুই হাজার ৯০০ কিলোগ্রামেরও বেশি বোমা তৈরির বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযান গত ১৫ দিন ধরে চলছিল বলে জানিয়েছে ভারতের পুলিশ।
সূত্র : এনডিটিভি।##
