অনলাইন ডেস্ক : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা নিরসনে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে হোয়াইট হাউস। শুক্রবার (২৯ মে) মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তি হবে না।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত শর্তসমূহ পূরণ করবে। ইরানকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।”
এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, কয়েক দফা আলোচনার পর সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে দুই পক্ষ। তবে ইরান সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী কূটনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে পেতে রাখা মাইন অপসারণ করবে এবং কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য জলপথটি উন্মুক্ত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ শিথিল করবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, উভয় দেশ ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংসের বিষয়েও সমন্বয় করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ স্থানান্তর বা আর্থিক লেনদেন হবে না।”
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ট্রাম্পের বক্তব্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরান আলোচনার পরবর্তী ধাপে যেতে হলে প্রথমেই বিদেশে আটকে থাকা প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
ফার্স নিউজের সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে টোলমুক্ত চলাচল সংক্রান্ত কোনো ধারা আলোচ্য খসড়া চুক্তিতে নেই। একইভাবে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যকেও “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন” বলে অভিহিত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ৪৭ বছর আগেই ‘অবশ্যই করতে হবে’ ধরনের ভাষা প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা চাপ বা হুমকির ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি না।” তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি-এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি “সম্মানজনক ও ন্যায্য কাঠামোর” ভিত্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ফলে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন তারা।

