বাংলা কাগজ প্রতিবেদক : গত ১ ও ২ নভেম্বর, শনিবার ও রবিবার টরন্টোর ২৬৭০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ’র বাংলাদেশ সেন্টার ও কমিউনিটি সার্ভিসেস (বাংলাদেশ সেন্টার) এ অনুষ্ঠিত হলো শিল্পী ওয়াহিদ আসগারের একক চিত্র প্রদর্শনী। ‘Silver Years: A Celebration’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর বিভিন্ন মাধ্যমে আঁকা মোট ৭৩টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়।


চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কানাডার প্রাক্তন ফেডারেল মন্ত্রী এবং টরন্টোর বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এর লিবারেল পার্টির জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মারিয়া মিন্না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্ক্যারবরো সাউথওয়েস্ট এর এমপিপি ডলি বেগম ও বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এর এমপিপি ম্যারি মার্গারেট ম্যাকমোহন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন চিত্রশিল্পী তাজউদ্দিন, চলচ্চিত্র লেখক ইকবাল করিম হাসনু, সঙ্গীত শিল্পী ও সমাজসেবক শহীদ খন্দকার টুকু, সোনিয়া জামান, তসলিমুর রহমান প্রমুখ। রাহেলা খাতুনের উপস্থাপনায় শিল্পী ওয়াহিদ আসগার সম্পর্কে উপস্থিত দর্শকদের সামনে কিছু তথ্য উপস্থাপন করেন ওয়াহিদ আসগারের ছোট ভাই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রাক্তন প্রফেসর ড. শওকত হুসেন।



উল্লেখ্য, ওয়াহিদ আসগার ১৯৪০ সালের ২২ আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশুনা করেছেন ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী’স স্কুল, নটরডেম কলেজ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এ। ১৯৬৯ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর তিনি ১৯৭২ সালে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে যোগ দেন। প্রায় দুই যুগ তিনি বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও কুয়েত সরকারের অধীনে চাকরী করার পর এক যুগ ব্রুনাই এ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে চাকরী জীবন কাটান। পরে তিনি কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

শিল্পী ওয়াহিদ আসগার সত্তর দশক থেকে ছবি আঁকা শুরু করেন। ছবি আঁকার কোন প্রথাগত শিক্ষা না নিয়েই তিনি শখ ও আনন্দে অবসরে ছবি আঁকেন। তবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের একমাত্র কন্যা ও তাঁর স্ত্রী ‘লাইলী’র মৃত্যুর পর ছবি আঁকা হয়ে উঠে তাঁর নিত্য সঙ্গী। ওয়াটার, এক্রোলিক, কোলাজ ও অয়েল প্যাস্টেল মাধ্যমে আঁকা মূর্ত ও বিমূর্ত ছবিতে তিনি নিজের চিন্তা-ভাবনা, দর্শন ও আশেপাশের পরিবেশকে তুলে ধরেন। ছবি আঁকায় ওয়াহিদ আসগারের প্রধান অনুপ্রেরণা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর প্রিয় শিল্পী হচ্ছেন জয়নুল আবেদীন ও ভিনসেন্ট ভ্যান গগ। আর তাঁর নেশা হচ্ছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আর্ট গ্যালারী ভ্রমণ।

উল্লেখ্য, চিত্র প্রদর্শনীর বিক্রিত শিল্পকর্ম থেকে অর্জিত সমুদয় অর্থ শিল্পী ওয়াহিদ আসগার বাংলাদেশ সেন্টারের সমাজকল্যাণমুখী উদ্যোগ ও উন্নয়নকল্পে প্রদান করবেন।

