অনলাইন ডেস্ক : একটি মার্কিন নতুন জাতীয় জরিপে প্রকাশ পেয়েছে যে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আমেরিকান মনে করেন যে চীন ক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রভাবে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাবে, যদি তা ইতিমধ্যেই না ঘটে থাকে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ১,৫০০ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে চীন ইতিমধ্যেই আমেরিকাকে ছাড়িয়ে গেছে অথবা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা করবে, আর ২৭ শতাংশ মনে করেন যে এই পরিবর্তন ঘটতে আরও বেশি সময় লাগবে।
মাত্র ২৬ শতাংশের ধারণা যে, চীন কখনই তা অর্জন করতে পারবে না।প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে চীনের প্রধান সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করে ৬৩ শতাংশ মার্কিন উত্তরদাতা এটিকে এমন এৎকটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে চীন আমেরিকাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে ৭৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ৬২ শতাংশ স্বাধীন এবং ৫২ শতাংশ রিপাবলিকান উত্তরাদাতা অন্তর্ভুক্ত।
চীনের অর্থনৈতিক শক্তিকেও স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন উত্তরদাতারা। তাদের মধ্যে, ৪২ শতাংশ বলেছেন যে এই ক্ষেত্রে চীনের একটি অগ্রাধিকার রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ মানুষ এখনও তারা আমেরিকাকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন, এর বৈশ্বিক প্রভাবকে মূল্যবান মনে করেন। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বলেছেন যে এটি খুব বা কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মার্কিন তরুণ প্রজন্মের ৬২ শতাংশ বলেছেন যে চীন যদি আমেরিকার চেয়ে বেশি ক্ষমতা অর্জন কওে, তাহলে তাদের জীবন খারাপ হবে না, যেখানে মাত্র ১৪ শতাংশ এটিকে বিপর্যয়কর বলে মনে করেন।
পরিচালিত জরিপটিতে আমেরিকার পক্ষপাতমূলক এবং প্রজন্মগত বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অতিক্রম করলে তাদের ব্যক্তিগত জীবন খারাপ হবে।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ আমেরিকান এমন আশঙ্কা করেছেন, যেখানে কেবল ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ২৭ শতাংশের মধ্যে এই আশঙ্কা রয়েছে।এদিকে, ৫৯ শতাংশ আমেরিকাকে বৈশ্বিক শক্তির মধ্যে অন্যতম হিসাবে দেখেন এবং ৫৪ শতাংশ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পাচ্ছে।
এই সমীক্ষাটি ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের একটি প্রতিবেদনকে প্রতিফলিত করে বলেছে যে, আমেরিকানরা চীনের প্রতি কম বৈরি মনোভাবের হয়ে উঠছে। একত্রে, তথ্যগুলো নির্দেশ করে, ওয়াশিংটন বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর হলেও সাধারণ মার্কিন জনগণ ক্রমশ স্বীকার করছে যে, আমেরিকার আধিপত্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে এবং খুব কম লোকই এটি রক্ষার খরচ বহন করতে ইচ্ছুক।

