সাহিদুল আলম টুকু : প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৭ নভেম্বর, সন্ধ্যায় টরন্টো ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে টরন্টোর ৩০০০ ড্যানফোর্থ এভিনিউ’র ‘মাল্টিকালচারাল ফিল্ম স্ক্রীনিং সেন্টার’ এ এক আলোচনা ও প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঋত্বিক ঘটকের ভাগ্নি রীনা চক্রবর্তী।


উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালের ৫ নভেম্বর ঋত্বিক ঘটক ও তাঁর জমজ বোন প্রতীতি দেবী ঢাকায় জন্মেছিলেন। তাঁদের বেড়ে উঠা ছিল পদ্মার তীরের রাজশাহী শহরে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তাঁদের পরিবারকে রাজশাহী থেকে কলকাতায় চলে যেতে হয়। ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হয়ে যাওয়াকে ঋত্বিক কোনভাবেই মেনে নিতে পারেন নি। ‘ভাঙ্গা বাংলার দগ্ধ প্রাণ’ ঋত্বিক ঘটক কাছ থেকে, আর জীবন দিয়ে দেখে গেছেন জোর করে শেকড় থেকে উপড়ানো মানুষের দুঃখ, কষ্ট আর মানবেতর জীবনযাপন। ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে এসব মানুষের জীবনকে তুলে এনেছিলেন এক শৈল্পিক মহিমায়।



তিনি নির্মাণ করেছিলেন ‘অযান্ত্রিক’ (১৯৫৮), ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০), ‘কোমলগান্ধার’ (১৯৬১), ‘সুবর্ণরেখা’ (১৯৬২), ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭৩) ও ‘যুক্তি তক্ক আর গপ্পো’ (১৯৭৪)’র মত সব কালজয়ী চলচ্চিত্র। ঋত্বিক ঘটক তাঁর চিন্তা চেতনা আর দর্শন এর প্রতি সবসময় সৎ ছিলেন এবং ব্যক্তি মানুষ সামষ্টিক ব্যাথা ধারণ করে আজীবন সাধারণ মানুষের সাথে পথ চলেছিলেন। ঋত্বিক ঘটকের জন্মের একশ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি একটুকু মলিন হন নি। বর্তমানে শুধু ভারত উপমহাদেশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ঋত্বিক ঘটক’কে নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা চলছে। আজ থেকে ষাট সত্তর বছর পূর্বে নির্মিত তাঁর চলচ্চিত্রের বিষয় ও নির্মাণ শৈলী নিয়ে প্রতিনিয়ত ভাবাচ্ছে পৃথিবীর চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের। উল্লেখ্য, গত ২৪ থেকে ২৮ শে আগস্ট টরন্টো ফিল্ম ফোরাম আয়োজিত ‘৮ম টরন্টো মাল্টিকালচারাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’ মহান চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের জন্ম শত বার্ষিকীতে তাঁর প্রতি উৎসর্গ করা হয়।

ঋত্বিক ঘটক জন্মশতবার্ষিকীতে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোল্লা সাগর পরিচালিত প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘ভবার ভিটে’ এবং এনায়েত করিম বাবুল নির্মিত ঋত্বিক ঘটক ও তাঁর জমজ বোন প্রতীতি দেবীকে নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষে ঋত্বিক ঘটকের ভাগ্নি রীনা চক্রবর্তীর হাতে রাজশাহীতে ভেঙ্গে ফেলা ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক বাড়ীর একটা ইট তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে রীনা চক্রবর্তী রাজশাহীর সেই বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী শেষে আলোচনায় অংশ নেন ঋত্বিক ঘটকের ভাগ্নি রীনা চক্রবর্তী, ঋত্বিক ঘটকের ভাগ্নি জামাই ড. সিতাংশু চক্রবর্তী, তাঁদের সন্তান আনন্দ চক্রবর্তী, চলচ্চিত্র লেখক ইকবাল করিম হাসনু, চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, কবি তুষার গায়েন এবং টরন্টো ফিল্ম ফোরাম এর সভাপতি এনায়েত করিম বাবুল। আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টরন্টো ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিস রফিক।

