হেলাল সরকার : কানাডায় এক অনিন্দিত দূর্জয়ী নারীর নাম ডলি বেগম- যা এখন বাংলা কমিউনিটিতে সবার মুখে মুখে। পান্জেরী হয়ে দুর্ভেদ্য দুর্যোগপূর্ণ রাতে এগিয়ে আসা এক নেতৃত্বের নাম ডলি বেগম। ইতিহাস সৃষ্টির আরেকটি নাম ডলি বেগম। কানাডার রাজনীতিতে যখন কোনো ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাংলাদেশীর নাম উচ্চারিত হয়- তখন সর্ব প্রথম যে নামটি টপ অফ দি মাইন্ভে ওঠে আসে তিনি আর কেউ নন সকলের সুপরিচিত সদা হাস্যজ্বল ডলি বেগম। বাংলাদেশের নিভৃত এক পল্লী থেকে উঠে এসে উত্তর আমেরিকার রাজনীতির মঞ্চে নিজের নাম খোদাই করা এই নারী এখন কেবল একটি নাম নন, বরং হাজারো অভিবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস।স¤প্রতি স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্ট আসনে ফেডারেল লিবারেল পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি তাকে আবারও একধাপ এগিয়ে নিয়ে এসেছে নেতৃত্বের উচ্চ মর্যাদায়।
জানাযায় বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেড়ে ওঠা ডলির শৈশব ছিল আর দশটা সাধারণ মেয়ের মতোই। বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান তুষারশুভ্র দেশ কানাডায়। কিন্তু নতুন দেশে শুরুটা সহজ ছিল না। অভিবাসী জীবনের কঠিন সংগ্রামের পাশাপাশি মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় শিকার হন বর্ণবাদের। কিন্তু সেই তিক্ত অভিজ্ঞতছিলো কিশোরী ডলির মনে গেঁথে থাকা এক প্রতিবাদের বীজ- যা পরবর্তীতে তাকে রূপান্তর করে এক লড়াকু জন প্রতিনিধিত্বে।
ডলি বেগম জানতেন, পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি পাড়ি জমান লন্ডনে। সেখানে বিশ্ববিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি ঘরে বসে থাকেননি- বরং টরন্টোর সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে নামেন বন্ধুর অপার রাজপথে।কিপ হাইড্রো পাবলিক আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি তখন প্রমাণ করেছিলেন, জনগণের শক্তিতেই তিনি বিশ্বাসী।ইতিহাসের পাতায় ডলি বেগম, ২০১৮ সালের ৭ জুন তারিখটি কানাডীয়-বাংলাদেশিদের জন্য ছিল এক ঐতিহাসিক দিন। সেদিন অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে এনডিপির হয়ে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে এমপি (MPP) নির্বাচিত হন তিনি। ২০২২ সালে আবারও বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেন, তার এই জনপ্রিয়তা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং মানুষের ভালোবাসার সফল ফসল। বর্তমানে তিনি অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার এবং বিরোধী দলের শ্যাডো মিনিস্টার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিল বেøয়ারের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার উত্তরসূরি হিসেবে ফেডারেল রাজনীতিতে ডলি বেগমের নাম আসাটা তার ক্যারিয়ারের সবথেকে বড় মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
স্কারবোরোর অলিগলি যার নখদর্পনে সেই বাংলাদেশী যখন অটোয়ার পার্লামেন্টে কথা বলবেন বাংলাদেশী পরিচয়ে-তখন তা হবে পুরো বাঙালি কমিউনিটির জন্য এক অনন্য গর্বের মুহূর্ত। ডলি বেগম কেবল রাজনীতির জন্য রাজনীতি করেন না। তিনি কথা বলেন অভিবাসীদের জন্য, কথা বলেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে এবং কাজ করেন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে। তার শান্ত অথচ দৃঢ় নেতৃত্ব তাকে আজ কানাডার রাজনীতির মূলধারায় এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। বাংলাদেশী সেই কিশোরী আজ কানাডার রাজনীতির শীর্ষ শিখরে-তার এই পথচলা আমাদের শেখায়- স্বপ্ন যদিও তা আকাশছোঁয়া হয় এবং সংকল্প যদি অটুট থাকে তবুও তা কোনো বাধাই প্রতিরোধ করতে পারে না। সৎ নিয়তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সকলকে সাথে নিয়ে পথচলার ফলাফল এরকম সুখের সুখবরের ইতিহাস সৃষ্টির।
This article was written by Md Helal Uddin Sarker as part of the LJI.

