অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। গোপন কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে সিনেটরদের কাছে এই তথ্য উপস্থাপন করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন।
বুধবার বিষয়টির সাথে পরিচিত একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সিনেটরদের জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। ছয় দিনে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে। যদিও এতে হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতির খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে আইন প্রণেতারা সংঘাত সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য আবেদন করছিলেন।
বুধবার সিনেটর ক্রিস কুনস সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি বিশ্বাস করেন যে মোট খরচের পরিমাণটি আরও বেশি, কারণ বর্তমান পরিসংখ্যানে যুদ্ধের প্রতিটি খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। শুধু যুদ্ধাস্ত্রের খরচই ইতিমধ্যেই ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা রুদ্ধদ্বার আলোচনা বা বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করি না। যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা খরচ জানতে পারব না।’
বেশ কয়েকজন সিনেটর বলেছেন, তারা আশা করছেন হোয়াইট হাউস শিগগিরই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন করবে। কিছু কর্মকর্তা বলেছেন, এই সংখ্যাটি ৫০ বিলিয়ন ডলারের হতে পারে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের খরচের হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’- এর হিসেব অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত পর্যন্ত ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে।
বিস্তারিত হিসাবে ওয়েবসাইটটি জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সেকেন্ডে ১১ হাজার ৫৪৭ ডলার, প্রতি ঘণ্টায় ৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ ডলার এবং প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে।
ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার আরও বলছে, এই হিসাবের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি খরচ যেমন যুদ্ধ থেকে ফেরত আসা সেনাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: রয়টার্স, এনবিসি
