অনলাইন ডেস্ক : বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা না চালানোর শর্তে ইরানকে ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেই অর্থ থেকে ৩০০ কোটি ডলার ইতোমধ্যেই তেহরানে হস্তান্তরিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। তবে এই দাবিগুলো সরাসরি নাকচ করেছে আমিরাত সরকার।
শনিবার (১৩ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ইরানের কোনও জব্দকৃত বা স্থগিত তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর কিংবা এ ধরনের কোনও লেনদেন হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতি নির্ভুল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানায়, আরব আমিরাত মোট ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার ইরানকে দিতে রাজি হয়েছে। ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে।
তবে এই অর্থ আমিরাতের নিজস্ব নাকি আমিরাতের ব্যাংকগুলো বা অন্য কোথাও আটকে থাকা ইরানেরই অর্থ, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সূত্রগুলো।
প্রসঙ্গত, আমিরাতের বিভিন্ন ব্যাংকে বহু বছর ধরে বিপুল পরিমাণ ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থ জমা রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব তহবিলের বড় অংশ বর্তমানে আটকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় কোনো বিদেশি ব্যাংক নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ইরানি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে সেটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
গত ১১ এপ্রিল এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এসব সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় এটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু, রয়টার্স

