অনলাইন ডেস্ক : প্রমোদতরী ‘এমভি হন্দিয়াস’-এ হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি ‘কম’ বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস।
তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ভাইরাস কেবল দীর্ঘক্ষণ নিবিড় সংস্পর্শে থাকলেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনে ছড়ায়।
তিনি বলেন, হান্টাভাইরাসের সুপ্তিকাল (ইনকিউবেশন পিরিয়ড) ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই আগামীতে আরও অনেকে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসতে পারে। তবে রোগটি গুরুতর হলেও ডব্লিউএইচও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেখেছে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বে জনস্বাস্থ্যে এর ঝুঁকি এখনও কম, জানান তিনি।
গেব্রেয়াসুস একইসঙ্গে আশ্বস্ত করেছেন যে, আক্রান্তদের নিয়ে প্রমোদতরী হন্দিয়াস স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে ভিড়লেও সেখানকার বাসিন্দাদের জন্যও সংক্রমণের ঝুঁকি কম।
ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম বলে তারা মূল্যায়ন করেছেন। স্পেন এই ঝুঁকি মোকাবেলায় সক্ষম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের সব ধরণের সহায়তা দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘হন্দিয়াস’ প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ থাকা আট জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের দেহেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মাসখানেক আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার পর ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগেই যারা জাহাজ থেকে নেমে গেছেন, তাদের খুঁজে বের করতে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশে ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ বা নিবিড় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
বর্তমানে জাহাজে থাকা সব যাত্রীকে নিজ নিজ কেবিনে থাকতে বলা হয়েছে। তাছাড়া যাদের শরীরে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র এক সংবাদ সম্মেলনে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ বলেন, হান্টাভাইরাসে সংক্রমিত প্রমোদতরীর সবাইকে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তি সন্দেহজনক রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন বা তাদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের উচিত আরও বেশি সুরক্ষামূলক পোশাক-আশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা।
হান্টাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা রোগীদের সংস্পর্শে এসেছে, তারা সংক্রমিত হয়েছে কিনা তা শনাক্ত করার কাজ চলছে।
“তবে হান্টাভাইরাস সাধারণত খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। এটি না কোভিড, না ইনফ্লুয়েঞ্জা, এর ছড়ানোর ধরন একেবারেই আলাদা”, বলেন মারিয়া।
হান্টাভাইরাসের সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুর সময়ের ফারাক নিয়ে তিনি বলেন, এখনকার পরিস্থিতি ছয় বছর আগেকার পরিস্থিতির মতো নয়।
“আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, এটি নতুন কোনও কোভিড মহামারির শুরু নয়। এটি এমন এক প্রাদুর্ভাব, যা কেবল একটি প্রমোদতরীতে দেখা গেছে।”
