অনলাইন ডেস্ক : সমঝোতা না করলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন করে’ দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্পের সবশেষ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি সমঝোতা চুক্তি করতে রাজি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) সময়সীমার পর তিনি বড় ধরনের বোমা হামলা চালাবেন।
এর জবাবে ইরানও চুপ করে বসে না থেকে পাল্টা হামলা চালানোর কথা বলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র দফতর বলছে, বিশ্বজুড়ে আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আর কোনো বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে। এই প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১০ দফা শর্তের প্রধান দিকগুলো হলো—
হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি কার্যকর হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হবে। এ ছাড়া তারা একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ তৈরির দাবি করেছে যা এই প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে।
মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার
পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল যুদ্ধকালীন ঘাঁটি এবং সেনা মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি
ইরানের ১০ দফা শর্তে অন্যতম একটি শর্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি প্রধান।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি
বিগত বছরগুলোতে ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ‘পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ’ দাবি করা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সম্পদ মুক্তি
ইরানের বিরুদ্ধে থাকা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাবনা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা
ইরান দাবি করেছে যে, ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।
মিত্র শক্তির নিরাপত্তা
ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। এটি মূলত হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধের দাবি।
