অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটন হাসপাতালে গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে ফিলাডেলফিয়া থেকে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে তাকে ডেলাওয়্যারে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। উইলমিংটন পুলিশ প্রধান উইলফ্রেডো ক্যাম্পোস এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আহত অন্য ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
হামলাকারী ব্যক্তি ওই হাসপাতালের কর্মী ছিলেন কি না বা সেখানে থাকতেন কি না, তা তদন্তের স্বার্থে এখনই নিশ্চিত করে নি পুলিশ। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। গুলির ঘটনার পরপরই হাসপাতাল জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের রোগী নির্দেশক ব্রায়ান ফেফার জানান, জরুরি বিভাগে থাকাকালীন তিনি পটকার মতো দুইটি গুলির শব্দ শোনেন এবং হাসপাতাল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্কুল বা হাসপাতালের মতো নিরাপদ জায়গাতেও এখন এসব ঘটছে। এটা আমেরিকার একটা বড় সমস্যা এবং এর সমাধান করা জরুরি।’ হামলাকারীকে খুঁজতে হাসপাতালের ভেতরে সোয়াট বাহিনী প্রতিটি কক্ষে তল্লাশি চালায়। এ সময় কয়েক ঘণ্টার জন্য হাসপাতালটি পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল এবং জরুরি বিভাগের রোগীদের অন্য হাসপাতালে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে অর্থহীন সহিংসতা আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উইলমিংটনের মেয়র জন কার্নি। অন্যদিকে ডেলাওয়্যারের গভর্নর ম্যাট মেয়ার এই ঘটনাকে এক কঠোর বাস্তবতা উল্লেখ করে বলেন, বন্দুক সহিংসতার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে এখন আর কেউই নিরাপদ নয়। এ ছাড়া সিনেটর ক্রিস কুনস ও লিসা ব্লান্ট রচেস্টারসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

