অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বেশ কয়েকটি অভিবাসন নীতির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এর ফলে ৩৯টি দেশের অভিবাসীর রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং বৈধ অভিবাসনের অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার পথ সুগম হলো।
শুক্রবার রোড আইল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। ১৩৫ পৃষ্ঠার এক রায়ে এই বিচারক জানান, বৈধ অভিবাসন সুবিধাগুলোর ওপর দেওয়া আরোপিত ব্যাপক বিধিনিষেধগুলো ‘আইনের পরিপন্থী এবং স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালীপূর্ণ’।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনায় এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আগে থেকেই ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন আবেদন স্থগিত করে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত বছরের শেষ দিকে চালু হওয়া এই পদক্ষেপগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ক্ষতিগ্রস্ত দেশের যার মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকা ও এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট, নাগরিকত্বসহ অন্যান্য আশ্রয় প্রক্রিয়াও স্থগিত করে।
পরে গত মার্চে অভিবাসী সেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে। শুক্রবার সেই মামলার রায় দেন বিচারক ম্যাককনেল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত এই বিচারক বলেছেন, ইউএসসিআইএস কোনো বিধিবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃত্ব ছাড়াই এবং শুধু অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের উপর ভিত্তি করে নীতিগুলি গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ইউএসসিআইএস-এর সমালোচনা করে বিচারক ম্যাককনেল আরও বলেন, ‘সর্বশেষ অভিবাসন নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংস্থাটি এমন আইনি ক্ষমতার দাবি করছে যা তাদের নেই। তারা কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং আবেদনকারীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় না নিয়েই কাজ করছে। জাতীয় নিরাপত্তার খোঁড়া অজুহাতে তারা নিজেদের পদক্ষেপের সাফাই গাইছে, যা মূলত তাদের অভিবাসনবিরোধী মনোভাবকেই আড়াল করার চেষ্টা। এ ধরনের বিদ্বেষমূলক মনোভাব কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে না।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, সংস্থাটি শুধু কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেনি, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য প্রশাসনিক আইনও ভঙ্গ করেছে।
এদিকে রায়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়ার জন্য রয়টার্সের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সূত্র: আনাদোলু, রয়টার্স

