অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। চলতি বছর সাংবাদিকতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে একাধিক পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ অন্যান্য শীর্ষ সংবাদমাধ্যমও একাধিক বিভাগে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য একটি পুরস্কার জিতেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই কাজটি ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করে।
অন্যদিকে, শিশু ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট এবং প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য আরেকটি পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স। এই প্রতিবেদনটি ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগে স্বীকৃতি অর্জন করে।
ন্যাশনাল রিপোর্টিং বিভাগে রয়টার্সের নেড পার্কার, লিন্ডা সো, পিটার ইসলার ও মাইক স্পেকটরসহ একাধিক সাংবাদিক এ স্বীকৃতি অর্জন করেন। অন্যদিকে বিট রিপোর্টিং বিভাগে রয়টার্সের জেফ হরউইজ ও এনজেন থাম পুরস্কৃত হন।
অন্যদিকে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাসহ তিনটি বিভাগে পুলিৎজার জিতেছে নিউইয়র্ক টাইমস। ট্রাম্প, তার পরিবার ও ট্রাম্পের মিত্ররা কিভাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার জিতেছে নিউইয়র্ক টাইমস। মতামতধর্মী লেখার জন্য পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের এম গেসেন। ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফিতে পুরস্কার জিতেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের প্রদায়ক সাহের আলঘোরা।
ওয়াশিংটন পোস্ট পাবলিক সার্ভিস বিভাগে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থাগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ব্যাপক কাটছাঁট ও পুনর্গঠন নিয়ে তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের জাহি চিকেওয়েনদু ‘ফিচার ফটোগ্রাফি’ বিভাগে এ বছরের পুলিৎজার জিতেছেন। আর অডিও রিপোর্টিং বিভাগে পুলিৎজার জিতেছেন পডকাস্ট পাবলো টোরি ফাইন্ডস আউটের কর্মীরা।
ব্রেকিং নিউজ রিপোর্টিং বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে মিনেসোটা স্টার ট্রিবিউনের সাংবাদিকরা। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের তিন সাংবাদিক সুশি নেইলসেন, মেগান ফ্যান মিউনি এবং সারা ডিনাটালে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার অর্জন করেন।
ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টিং বিভাগে অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) প্রদায়ক ডেক কাং, গ্রেরেনস বুরকি, বায়রন টাউ, অনিরুদ্ধ ঘোষাল ও ইয়েল গ্রাউয়ের পুলিৎজার জিতেছেন।
ফিচার লিখে পুলিৎজার জিতেছেন টেক্সাস মান্থলির অ্যারন পার্সলে। সমালোচনা বিভাগে ডালাস মর্নিং নিউজের মার্ক ল্যামস্টার এবং ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি বিভাগে ব্লুমবার্গের আনন্দ আরকে, সুপর্ণা শর্মা আর নাটালি ওবিকো পিয়ারসন পুলিৎজার জিতেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পুরস্কার সাংবাদিকতার নোবেল হিসেবেও খ্যাত। ১৯১৭ সাল থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

