অনলাইন ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূল কারণ হলো— ভেনেজুয়েলা সরকার যেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে মাদক পাচারের অভিযোগে ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আইনি খরচ বহন করতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী তাকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরোর আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক ফেব্রুয়ারিতে ম্যানহাটানভিত্তিক মার্কিন জেলা বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইনের কাছে মামলা খারিজের আবেদন করেন। তার যুক্তি ছিল— কারাকাস সরকারকে আইনি খরচ বহন করতে বাধা দেওয়া হলে, মাদুরোর নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা নিষেধাজ্ঞা সংশোধনে সম্মত হয়েছে। এর ফলে ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর প্রতিরক্ষা আইনজীবীর পারিশ্রমিক দিতে পারবে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করে, এই পরিবর্তনের ফলে মামলাটি খারিজের জন্য করা আবেদন এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। এর মধ্য দিয়েই ট্রাম্প মূলত মাদুরোকে আবারও ফাঁদে ফেলেছে।
এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। অনেকেই নিউ ইয়র্ক সিটির আদালতে মাদুরোর বিচারকে মৌলিকভাবে অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে অপহরণ করা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে এসেছে, এটি আসলে সামরিক সহায়তায় পরিচালিত একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তাদের বক্তব্য, বিতর্কিত নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। আন্তর্জাতিক আইনের ‘হেড অব স্টেট ইমিউনিটি’ নীতির আওতায় সাধারণত ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানরা বিদেশি আদালতের বিচার থেকে সুরক্ষা পান— এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর মাদুরো ও ফ্লোরেস নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। মাদুরোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগ আসলে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি অজুহাত। ট্রাম্পও একাধিকবার বলেছেন, তিনি চান বিদেশি কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদে প্রবেশাধিকার পাক।
এদিকে ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বিচারক হেলারস্টেইন মামলাটি খারিজ করবেন—এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভেনেজুয়েলা সরকারকে আইনি খরচ বহনে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন কি না। যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক হোক বা না হোক—সব আসামিরই মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
সে সময় প্রসিকিউটররা যুক্তি দেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আরোপ করা হয়েছে এবং পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের দায়িত্ব বিচার বিভাগের নয়, বরং নির্বাহী বিভাগের। তারা আরও বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন।
জবাবে বিচারক হেলারস্টেইন মন্তব্য করেন, ‘আসামি এখানে, ফ্লোরেস এখানে—তারা আর কোনো জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যে অধিকারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো সাংবিধানিকভাবে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার।’

