অনলাইন ডেস্ক : যেসব দেশ ইরানের কাছে সামরিক অস্ত্র বিক্রি বা সরবরাহ করবে, তাদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যে দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করবে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করা তাদের সমস্ত পণ্যের ওপর অবিলম্বে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম বা ছাড় দেওয় হবে না!’
ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এই কঠোর পদক্ষেপ নিলেন।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের ব্যবসা করা দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে তিনি এই শুল্কের হার বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, এই শুল্ক নীতির মূল লক্ষ্য রাশিয়া এবং চীন, যারা ইরানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী।
সুইডেন ভিত্তিক একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপরির (SIPRI) তথ্যমতে, এরমধ্যে গত এক দশকে ইরানের মোট আমদানিকৃত অস্ত্রের সিংহভাগই এসেছে রাশিয়া থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের একটি গোপন অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া আগামী তিন বছরে ইরানকে ২৫০০টি ‘৯এম৩৩৬’ মিসাইল এবং ৫০০টি ‘ভারবা’ লঞ্চার সরবরাহ করবে।
এর আগে ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম- ড্রোন ও মিসাইল ক্রয় করেছে।
অন্যদিকে চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ‘প্রধানত তেলের বিনিময়ে অস্ত্র’-এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। দেশটি ইরানকে অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে। যদিও সঠিক আর্থিক অংক প্রায়ই গোপন রাখা হয়, তবে কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী চীন ইরানকে গোপনে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
এছাড়া ইরান চীন থেকে ৮০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্ডার করেছে বলে জানা গেছে।
অন্যান্য দেশের মধ্যে বেলারুশ থেকেও ইরান রাডার সিস্টেমের মতো সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করে থাকে।
সূত্র: আলজাজিরা

